Logo
শিরোনাম
ঈদগাঁওতে বসতবাড়ীতে চুরির ঘটনায় আইফোন সহ গ্রেফতার- ২ নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীর গহীন  পাহাড় থেকে ৩ শ্রমিক অপহরণ ‎‎পাহাড়ী জনপদ ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকে অপহরন পটিয়ার  নাইখাইনে গরু চুরি হওয়া  থানায় অভিযোগ: উল্টো  ভুক্তভোগী কৃষকের বড় ভাইকে  হয়রানি শিকার। ফুটবল ও ক্রিকেটে খেলোয়াড় বাছাই….. ঈদগাঁওতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস্ কর্মসূচির বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হারবাংয়ে ৩০শতক বনভূমি দখলমুক্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিলাইছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় ৩০৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে  অনুপস্থিত  ৬ ঈদগাঁওতে ৩ কেন্দ্রে এসএসসিও দাখিল পরীক্ষা শুরু বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকিরকে দেখতে হাসপাতালে VL পাংখোয়া গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধি

বাগমারায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

বাগমারা প্রতিনিধিঃরাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ও হাটগাঙ্গোপাড়াসহ আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে ডিগ্রিধারী চিকিৎসক,নার্স ও টেকনোলজিস্ট ছাড়াই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই।

রেজিস্টেশন, চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট ছাড়াই অলিগলিতে গড়ে ওঠা এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা ব্যবসা। এবং সেখানে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকগুলো লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যথাযথ অপারেশন থিয়েটার ছাড়াই অহরহ সিজার করে যাচ্ছে। এবং অপচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে রোগী। তাদের নিজস্ব দালালের মাধ্যমে রোগীরা আসলে এসময় আনারি চিকিৎসক ডেকে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসার নামে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিমালা থাকা সত্তেও লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেকে শুধু সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসছেন। এই উপজেলায় মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই অনেকে এই ব্যবসায় নেমে পড়ছেন। সিভিল সার্জন অফিসের রেজিস্ট্রেশন তালিকার বাইরে এমন অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অফিস টাইমে প্রাইভেট প্রাকটিস নিয়ে ব্যান্ত থাকায় প্রতিদিন অনেক রোগী বাগমারার সরকারি হাসপাতাল থেকে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরো জানাযায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ক্লিনিকে ১০ বেডের জন্য ৩ জন চিকিৎসক (সকাল, বিকেল ও রাতে প্রতি শিফট-এ ১ জন করে ৬ জন ডিপ্লোমাধারী নার্স, ৩ জন ওয়ার্ড বয় ও ৩ জন আয়া থাকার কথা। সরজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, লাইসেন্স ঠিক রাখার জন্য কাগজে-কলমে এ তালিকা ঠিক থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই তা নেই। অধিকাংশ ক্লিনিকেই নেই কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক। অথচ ক্লিনিকের সামনে বড় বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের সাইনবোর্ড লাগানো থাকে। এসব সাইনবোর্ড দেখে রোগীরা ক্লিনিকে গিয়ে প্রতারিত হয়। বেশিরভাগ সময় আনাড়ি চিকিৎসক দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। কোনো কোনো ক্লিনিকের রয়েছে নিজস্ব ডায়গনস্টিক সেন্টার এবং অনেক আলাদা ডায়গনস্টিক সেন্টারও রয়েছে। এসব সেন্টারে এক্স-রে, রক্ত, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, মলমূত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ভুল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো টেকনোলজিস্ট না থাকায় বেশিরভাগ সময় রোগীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন সেন্টারে একই পরীক্ষার ফল ভিন্ন ভিন্ন আসার নজির বিস্তর। এ কারণে রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে। এসব জেনেও এবং সরকারি হাসপাতালে সব পরীক্ষার উন্নত ব্যবস্থা থাকা সত্তে¡ও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার জন্য রোগীদের তাদের সঙ্গে আঁতাত করা নির্দিষ্ট ডায়গনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। এসব পরীক্ষা থেকে চিকিৎসকরা ৫০%-৬০% পর্যন্ত কমিশন পেয়ে থাকেন। চিকিৎসকদের কমিশনের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট হলেও রোগীরা এ ক্ষেত্রে অসহায়।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন অফিস বলছেন, অভিযোগ পেলে গড়ে উঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রামেক হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, রেজিস্ট্রেশনের শর্ত অনুযায়ী ১০ শয্যার ক্লিনিকের জন্য একজন চিকিৎসক, তিন জন ডিপ্লোমাধারী নার্স ও তিন জন সুইপার থাকতে হবে। এছাড়াও প্রতিবছর নবায়ন করতে হবে রেজিস্ট্রেশন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!