মো. ইসমাইলুল করিম নিজস্ব প্রতিবেদক :
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে কঠোরতা, তথ্য যাচাইয়ে গুরুত্ব ও দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ উপজেলা নির্বাচন অফিসে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ। তাঁর সাম্প্রতিক কার্যক্রমে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৩ আগষ্ট সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল হামিদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভোটার নিবন্ধনে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র, সন্দেহজনক আবেদন এবং দালালনির্ভরতার প্রবণতা কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা বা অন্য কোনো অযোগ্য ব্যক্তির ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।বিশেষ করে নতুন ভোটারদের স্বশরীরে নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিভাবক সঙ্গে রাখার বিষয়েও আবেদনকারীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টগুলো অনলাইনে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তথ্য তদারকি করা হচ্ছে। কোনো আবেদন বা ফাইল নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সেটি মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে বর্তমানে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও শৃঙ্খলার মধ্যে আসছে। তাদের ভাষ্য, ভোটার হতে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও সঠিক নাগরিককে সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার স্বার্থে এই কঠোরতা প্রয়োজনীয়।তারা আরও মনে করেন, ভোটার তালিকা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই একজন অযোগ্য বা ভুয়া ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি একজন প্রকৃত নাগরিক যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন। সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ যাচাই, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত নির্বাচন অফিসের মূল লক্ষ্য।সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, বর্তমান নির্বাচন কর্মকর্তার উদ্যোগ ও যাচাই-বাছাইয়ের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে দালালের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি নির্বাচন অফিসের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেবা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। সচেতন মহলের আরও অভিমত,এ ধরনের যাচাই-বাছাই ও কঠোরতা যদি আরও আগে থেকেই কার্যকর থাকত, তাহলে বিতর্কিত বা ভুয়া ভোটারতৈরির সুযোগ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। তাই কিছুটা সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন হলেও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার স্বার্থে বর্তমান উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।জনগণের সেবায় আন্তরিকতা, ভোটার নিবন্ধনে সতর্কতা, তথ্য যাচাইয়ে গুরুত্ব এবং অনিয়ম প্রতিরোধে উদ্যোগ—লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসের বর্তমান কার্যক্রমে এমন ইতিবাচক পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানান স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
নির্বাচন অফিসের আরেক জন কর্মকর্তা জানান, অনেক সময় সাধারণ মানুষ দালালের প্রলোভনে পড়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেন। পরবর্তীতে সেই অতিরিক্ত ব্যয়কে নির্বাচন অফিসের সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। অথচ অফিসের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, দালালের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।নির্ধারিত নিয়মে সরাসরি নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, “অতীতে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে আসলে আমি বিস্তারিত জানি না। তবে আমার সময়ে আমি জনগণের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত আছি। সবার জন্য সমানভাবে সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। জালিয়াতি, ভুল তথ্য এবং রোহিঙ্গা ভোটার নিরসনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। যারা ভোটার হতে আগ্রহী, তাদের স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোটার হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তাদের সঙ্গে যেন অভিভাবক থাকেন, সেটাও বলে দিয়েছি। বর্তমান কার্যক্রমে কোনো ভুল হলে কিংবা অফিসের কারও সেবায় ভুলত্রুটি থাকলে ইনশাআল্লাহ আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।