ইসমাইলুল করিম: লামা প্রতিনিধি :পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামায় ফাইতং ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড বুড়ির চিকন ঘোনা এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লেগে একটি বাড়ির বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাটি এলাকার মৃত জহির আহমদ ছেলে জয়নাল আবেদীন এর বাড়িতে। (২৭ ফেব্রুয়ারী) সোমবার সকাল ১১টায় সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে তার প্রায় ২/৩ লাখ টাকার অধিক আসবাবপত্র ও থাকার বাড়ি পুড়ে গেছে।
সরেজমিনে জানা যায় বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লেগে ঘরের ভেতর থাকা সব আসবাবপত্রসহ, নগত টাকা, চাল, ডাল, ঘরের সব জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এখন এই পরিবার টি খোলা আকাশ নিচে। খবর পেয়ে প্রতিবেশী ঘটনা স্থলে পৌঁছানোর আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বাড়ির বসতঘর চিন্না বলতে কিছু নেই।
ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা বলেন, আজকে সকাল ১১টার সময় ঔ’বাড়ি থেকে হঠাৎ করে ধোয়া বের হতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে আগুন জ্বলতে থাকে এসময় আমরা প্রাথমিকভাবে যে যার মতো করে বালতি দিয়ে পানি নিভানোর চেষ্টা করি এবং তৎক্ষনিক উপজেলা ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করি কিন্তু ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে আগুনে সব পুড়ে গেছে, আগুন কোনো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
বাড়ীর মালিক জয়নাল আবেদীন স্ত্রী বলেন, পাশ্ববর্তী বাড়িতে যায়, এর মধ্যে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনটি লাগে তারপর ভিতরে থাকা রঙ্গের ড্রাম এবং সব নতুন নতুন আসবাপত্র ও ঘরের যা কিছু ছিল সব পুরে ছাই হয়ে গেছে। ছেলে ও মেয়ে নিয়ে আমি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বাস করছি। এছাড়াও আমার ঘরে থাকা সকল মালামালও পুড়ে গেছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পার্বত্য মন্ত্রী বাবু বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি মহোদয়, লামা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও সকল মানবতার সেবকদের সহযোগিতা চাই।
বসতবাড়ির মালিক জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি একজন গরিব দিন মুজুরী বাড়ি নতুন নতুন আসবাবপত্র অনেক কষ্ট করে বানিয়েছিলাম আমার এক ছেলে ও দুই মেয়ে কে নিয়ে আমার সংসার। আমিরাবাদ পানের ব্যবসা করে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালাই আমি এখন নিঃস্ব।
আওয়ামিলীগ নেতা শেখ এইচ এম আহসান উল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে বলি, আমার এলাকায় জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় ব্যর্থ হয়। কোনো ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ না আসে। আগুনের তীব্রতার কারণে মানুষ এগিয়ে যাওয়ার মত পরিস্থিতি ছিলো না। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রায় ২’থেকে ৩’লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ধারণা করা যায়।
এদিকে খবর পেয়ে ফাইতং পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছায় এবং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ শামিম শেখ জানান, বসত বাড়ির ঐ ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয় এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক বলেন, এখন দূরে আছি বিকালবেলা দেখতে যাবো। বাড়ি আগুন পুড়ে গেছে খবর পেয়েছি পরিষদ পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি