নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
রক্তদাতার সম্মান, স্বেচ্ছাসেবীর নিরাপত্তা এবং রোগীর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঈদগাঁও ব্লাড ব্যাংকের উত্থাপিত ৯ দফা মানবিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলো তিনটি হাসপাতাল। যার ফলে ঈদগাঁওর চিকিৎসা সেবায় স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতাদের সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৩ জুলাই ঈদগাঁও ব্লাড ব্যাংকের পক্ষ থেকে রক্তদাতা, মানবিক স্বেচ্ছাসেবী ও রোগীদের স্বার্থ রক্ষার্থে স্থানীয় হাসপাতাল গুলোর কাছে ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়েছিল। ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বশীল তৌহিদ তারকা জানান, এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঈদগাঁও আধুনিক হাসপাতাল, ঈদগাহ মেডিকেল সেন্টার এন্ড হাসপাতাল ও ঈদগাহ সেন্ট্রাল হাসপাতাল।
ইতোমধ্যে ঈদগাঁও আধুনিক হাসপাতাল এবং ঈদগাহ মেডিকেল সেন্টার এন্ড হাসপাতাল স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের জন্য পৃথক ডোনার কর্নার কিংবা রুম চালু করেছে। রক্তদাতাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানাতে নিয়োজিত রাখা হয়েছে বিশেষ টিম।
বিশেষ করে, ঈদগাহ মেডিকেল সেন্টার এন্ড হাসপাতাল রক্তদানের পর রক্তদাতাদের জন্য পানি ও এসএমসি জুসের ব্যবস্থা করেছে, যা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে ঈদগাঁও সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ৯ দফা দাবীর সাথে একাত্মতা পোষনের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন।
ঈদগাঁও ব্লাড ব্যাংকের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ১। হাসপাতালে আসা প্রতিটি রক্তদাতাকে পরম যত্নে রিসিভ করা, পাশে থাকা এবং সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে দ্রু||ততম সময়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে বিদায় জানানোর জন্য বিশেষ টিম নিয়োজিত রাখা ২। প্রতিটি হাসপাতালে রক্তদাতাদের জন্য আলাদা ডোনার কর্নার রাখা, যেখানে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, বিশ্রামের স্থান, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকবে। ৩। একজন গর্ভবতী মা সাধারণত ৭-৮ বার গাইনি চিকিৎসকের কাছে যান। প্রতিটি ভিজিটে চিকিৎসক রোগীকে অন্তত ২ জন সম্ভাব্য রক্তদাতা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেবেন এবং তা প্রেসক্রিপশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন। ৪।রক্তের আবশ্যিক প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত না করে কোনো রক্তদাতা বা স্বেচ্ছাসেবীকে হাসপাতালে এনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অযথা বসিয়ে রাখা যাবেনা ৫। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সচেতন করবে, যাতে তাঁরা রক্তদাতার প্রতি সম্মানজনক আচরণ করেন, রক্তদানের পর তাঁর খোঁজখবর নেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী রক্তদাতার যাতায়াত খরচ ও পুষ্টিকর পানীয় যেমন ডাব/জুসের ব্যবস্থা করেন। ৬। স্ক্রিনিং বা ক্রস-ম্যাচিংয়ের সময় কোনো রক্তদাতার HBsAg পজিটিভ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা ধরা পড়লে, কোনো প্রকার ডাক্তার ফি ছাড়াই দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরামর্শ ও প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। ৭। কোনো অদক্ষ কর্মী দিয়ে নয়, কেবল দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা। ৮। রক্তদাতা ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি যেকোন ধরনের হয়রানি, অবহেলা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ বন্ধ করে নিরাপদ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা। ৯। রক্ত সংগ্রহের বেড বা রুম শতভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, জীবাণুমুক্ত এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অথবা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল উপযোগী রাখা। অপরিচ্ছন্নতা কিংবা একই সিরিঞ্জ/ক্যানুলা ব্যবহারের মতো কোনো ধরনের অবহেলা না করা।
ঈদগাঁও ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা আরো জানিয়েছেন, এই দাবিগুলো কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতার জন্য নয়, বরং রক্তদাতা, স্বেচ্ছাসেবী ও রোগীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেসব প্রতিষ্ঠানে রক্তদাতাদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবেনা, সেগুলোর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন থেকে উপজেলার রক্তদাতারা সম্পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যে ২৪ ঘণ্টা উল্লিখিত তিনটি হাসপাতালে গিয়ে রক্তদান করতে পারবেন। ব্লাড ব্যাংক এই মানবিক উদ্যোগে সাড়া দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।