আমিনুল ইসলাম
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মাদককে না বলুন, সুস্থ সমাজ গড়ুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা এবং পরিবার ও সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
সকালে মাদকবিরোধী র্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। র্যালিটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে মাদক পাচার, বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
পরে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল। সদস্য তৈয়ব উল্লাহর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুদ্দীন খালেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবদুল হামিদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুর রশিদ, অর্থ সম্পাদক মো. ইউনুস, যুগ্ম সম্পাদক জয়নাল আবেদীন টুক্কুসহ প্রেসক্লাবের সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। মাদকের কারণে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদকের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গ সম্পর্কে দায়িত্বশীল নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদক পাচার ও বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সমস্যা ও মানসিক অবস্থার প্রতি নজর দিতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী প্রচারণায় গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।