নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়নের মেহেরঘোনা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ি, দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর এবং গাছপালা কর্তনসহ প্রাণনাশের হুমকি অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান।
প্রতিকার চেয়ে ২১ অক্টোবর (বুধবার) ঈদগাঁও থানায় স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রবাসী মিজানুর রহমান।
ভোক্তভোগী মিজানুর রহমানের অভিযোগ, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে একটি দল রাতের অন্ধকারে তাঁর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় ঘরবাড়ি ও দেয়ালের ক্ষতিসাধনসহ গাছ পালা কেটে ফেলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ভোক্তভোগীর ভাষ্য মতে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জমি বিরোধ অভিযোগে মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের দিকে ৮০কড়া ভিটাজমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তিনি ঘটনার বিষয়ে ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছিল। পরে চেয়ারম্যান তাঁর পক্ষে একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন বলে জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্র মতে, মেহেরঘোনার মৃত কালা মিয়ার পুত্র প্রবাসী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ইসমাইল, গিয়াস উদ্দিন, সেলিম উল্লাহ হেলালী, ইসমত আরা, সাবেকুনাহার, কামরুন্নাহার,আবু ছিদ্দিক মোবারক ও রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে আরও ৭/৮ জন নাম অজ্ঞাত নামায় রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ্য যে, তফসিলের জমি আমার পিতার মৃত্যুর পূর্বে ২০১২ সালের ৮ আগষ্ট ইং নোটারী পাবলিক কক্সবাজার রেজি নং ৩০৮ মূলে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘবছর শান্তিপূর্ণ ভোগ দখল স্থির আছি। বিবাদীদের কোন প্রকার স্বত্ব ও দখল ছিলনা।
একজন জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও সরাসরি বিরোধীপক্ষে অবস্থান নিয়ে দোসর আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে তিনি। দীর্ঘসময় প্রবাসে থাকায় দুর্বলতার সুযোগে হীন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন। এমনটি জানালেন ভোক্তভোগী মিজানুর রহমান।
৫ সদস্য কমিটির সদস্য মেম্বার মাহমুদুল হাসান মিনার জানান, বিরোধীয় জায়গাটি ইউপি চেয়ারম্যান মিজানের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে শুনেছি।
ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিরোধীয় জায়গাটি প্রবাসী মিজানুর রহমানের বলেও উল্লেখ করেন।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয় যাচাই বাচাই পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এলাকার সচেতন মহল।