রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় ৬৫টি প্রাথমিক ও ছয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। যদিও সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো শহীদ মিনার তৈরি হয়নি। এতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না ভাষার সঠিক তাৎপর্য, জানাতে পারছে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।
জানা গেছে, বিদ্যালয়গুলো ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি এলে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীদের যেতে হয় উপজেলা প্রশাসন নির্মিত শহীদ মিনারে। নিজ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে পড়তে হয় বিপাকে।
শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, স্লীপ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া বিজয় দিবস, শহীদ দিবস যথাযোগ্য ভাবে পালনে নির্দেশনাও দেওয়া রয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকার কারণে উপজেলা প্রশাসনের নির্মিত শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষার্থীরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৬১টি সরকারি ও চারটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই শহীদ মিনার নেই। এছাড়া আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ভুবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ও বনযোগীছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জুরাছড়ি উপজেলা প্রশাসন নির্মিত শহীদ মিনারটি শিশুপার্কে পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদ মিনার অধিক সময় থাকে তালাবদ্ধ। তাই কেউ যদি শহীদ মিনারে যেতে চায় তারা যেতে পারে না।
প্রবীণ শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী ধল কুমার চাকমা জানান, আমাদের জাতিসত্তার প্রথম উন্মেষ ঘটে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ভাষা শহীদদের প্রতি যথার্থ মর্যাদা দিতে হলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার নির্মাণ জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, একুশ এলেই আমরা শুধু মাতৃভাষার মর্যাদার কথা ও শহীদ দিবসের কথা বলি। এরপর ভাষা শহীদদের কথা কারো আর মনে থাকে না। তিনি আরো বলেন, বছর বছর উপজেলায় উন্নয়নের জন্য কত না বরাদ্দ আসছে। অথচ প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের তাগিদ কেউ অনুভব করছে না।
উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জুরাছড়িতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ বিদ্যালয়ের ভবন নব নির্মানের সাথে শহীদ মিনার নির্মানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিতেন্দ্র কুমার নাথ বলেন, সকল ছাত্র-ছাত্রীরা যেন নিজ নিজ বিদ্যালয়ে শহীদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে লক্ষে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
এ বিষয়ে আগামী উন্নয়ন সমন্বয় সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হবে এবং যে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
তাই ভাষা আন্দোলন ও অমর একুশে ফেব্রুয়ারির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে শিশু শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি স্থানীয় অভিভাবকদের।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি