সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:
পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর প্রথম শিরোপা জিতেছে বিলাইছড়ি উপজেলা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদর উপজেলাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিলাইছড়ি। নির্ধারিত সময়ে দুই দলের কেউই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রাঙামাটি সদরকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি উপজেলা। আর এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের নাম লেখায় দলটি।
রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশ নেন। টুর্নামেন্টকে ঘিরে শুরু থেকেই রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একসঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য বার্তা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. দীপেন দেওয়ান বলেন, রাঙামাটির মানুষের কাছে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাদকমুক্ত হোক সমাজ, ক্রীড়া হোক হাতিয়ার।” খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, এসপিপি,এনডিইউএসসি ,পিএসসির সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ভূট্টো।প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু—জেলার ১০ উপজেলা। আয়োজকদের ভাষ্য মতে , এ টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন নয়; বরং খেলাধুলার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে সম্পৃক্ত করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিলাইছড়ির এই জয় শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের জয় নয়, বরং প্রথম আসরের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।