• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
Headline
নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে ক্যাংঘরের সামনে কাঠ ব্যবসায়ী বাবুল কে জবাই করে হত্যা সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিষয়ক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত অটোরিকশাচালক আজমের সততার অনন্য দৃষ্টান্ত  ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী ঈদগাঁও উপজেলায় পালিত রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদরকে হারিয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন বিলাইছড়ি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য নন্দিতা দাশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে উপজেলা যুবদল ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য নন্দিতা দাশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে উপজেলা যুবদল ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ স্মৃতিবিজড়িত জনপদ ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও….. পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়  অচিরেই সরকারিকরণ করা  হবে: এমপি এনামুল হক দীর্ঘবছরেও স্থাপিত হয়নি ঈদগাঁওতে স্থায়ী বাস টার্মিনাল

স্মৃতিবিজড়িত জনপদ ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও…..

Reporter Name / ৩৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও 

ইতিহাসের ধূলিকণা যেখানে গল্প বলে, সবুজ প্রকৃতি সেখানে মেতে ওঠে রূপের মিতালিতে। মোঘল শাহজাদার স্মৃতিবিজড়িত নাম আর শত বছরের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক অনন্য জনপদ ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়ন। কিন্তু কীভাবে এলো ‘ঈদগাঁও’ নাম। 

বহুবছর আগের কথা। ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দ। ক্ষমতার লড়াইয়ে রক্তাক্ত মোগল সিংহাসন। প্রাণ বাঁচাতে আরাকানের দিকে ছুটছেন শাহ সুজা । ক্লান্ত কাফেলা তাঁবু ফেলল এক অচেনা নদীর কূলে, যার নাম ছিল ‘নয়াবাদ’।ঠিক তখনই আকাশে উঠল ঈদের চাঁদ। রাজপুত্র তার বাহিনী নিয়ে এ খোলা প্রান্তরেই সেজদাহ্ দিলেন ঈদের নামাজে। রাজপুত্রের সেই ঈদের স্মৃতি,ইবাদতের মাঠ জড়িয়ে কালের পরিক্রমায় চারশত বছর পর এই জনপদের নাম হলো ‘ঈদগাঁও’। বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের এক প্রাণবন্ত জনপদ এটি।

শিক্ষার আলোয় অনন্য ঈদগাঁও। উচ্চ শিক্ষার প্রসারে এখানে রয়েছে স্বনামধন্য ঈদগাঁও রশিদ আহমদ কলেজ,ঈদগাহ আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা,ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন,শাহ জব্বারিয়া আদর্শ আলিম মাদ্রাসা,অসংখ্য স্কুল ও মাদ্রাসা। একইভাবে,ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অপূর্ব নিদর্শন এই মাটি। ইউনিয়নে মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের জন্য রয়েছেন অসংখ্য জামে মসজিদ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রয়েছে মন্দির।

প্রকৃতি এখানে নিজ হাতে রূপের পসরা সাজিয়ে রেখেছে। মেহেরঘোনা ফরেস্ট উদ্যানে ঢুকলেই চোখে পড়বে সারি সারি আকাশছোঁয়া গর্জন গাছ। বিকেলে একটু শান্তিতে ঘুরে বেড়ানো, বন্ধু দের সাথে পিকনিক বা সুন্দর কিছু ছবি তোলার জন্য এটি চমৎকার একটা জায়গা। তবে আসল চমক লুকিয়ে আছে এখানকার রাস্তায়। মেহেরঘোনা হয়ে মাইজপাড়া সড়কটি দেখলে মনে হয় শিল্পী যেন নিখুঁতভাবে তুলি দিয়ে সবুজ রঙ করে দিয়েছেন। ঈদগাঁও-ঈদগড়ের আঁকা বাঁকা পাহাড়ি পথে বাতাসের দোলায় সমস্ত ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে মন শান্তিতে ভরে উঠবে।”

এখানকার সংস্কৃতিতে মিশে আছে চাঁটগাঁইয়া ঐতিহ্যের চাটুকারিতা, মেজবানও আতিথেয়তা। তবে সময়ের আবর্তনে হারিয়েছে অনেক কিছু। একসময়ের প্রমত্তা ঈদগাঁও নদীর বুকে পাল তোলা নৌকার সেই রূপ, মাঝিদের সারি গান আর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা আধুনিকতার ভিড়ে কিছুটা ম্লান,যা জনপদের হারানো ঐতিহ্য।

এখানে প্রতিদিনই থাকে ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতি। সপ্তাহে দুই দিন বসে হাট,যেখানে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ বেচাকেনার জন্য ছুটে আসেন।

দিনশেষে প্রতিটি জনপদের একটা নিজস্ব সুর থাকে। ঈদগাঁওয়ের সেই সুরটি মিশে আছে তার ব্যস্ত বাজারের কোলাহলে, মেহেরঘোনার গর্জন বনের পাতায় আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের শান্ত নীরবতায়। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের দীর্ঘ শ্বাস ছাপিয়ে এই জনপদ আজও অনন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা